অবশেষে দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৮:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০৮:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। কিন্তু নানান জটিলতায় দশম গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাচ্ছিলেন না প্রধান শিক্ষকরা। প্রায় ১০ মাস পর অবশেষে দশম গ্রেড পদ্ধতি অনুসরণ করার আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এতে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা।
আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে নির্ধারণ পদ্ধতি আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে, গত ডিসেম্বর থেকে হিসাব ধরে দশম গ্রেড অনুযায়ী যে পাওনা বকেয়া রয়েছে, তা নিয়েও আদেশে নির্দেশনা রয়েছে। বকেয়া প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ (জিও) জারির তারিখের পূর্বের কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।
জানা যায়, আদালতের রায়ের পর গত ডিসেম্বরে প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী- দশম গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হবে ৩২ হাজার টাকা দিয়ে, যার সর্বোচ্চ ধাপ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী- দশম গ্রেডে শুরুর বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা, যার সর্বোচ্চ ধাপ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।
এদিকে, দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আগে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ছিল ১১ ও ১২তম। আগের পে স্কেল অনুযায়ী- দুটি গ্রেডে মূল বেতন শুরু হতো যথাক্রমে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ও ১১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে।
অন্যদিকে নতুন পে স্কেলে ১১তম গ্রেডে শুরুর বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। আর ১২তম গ্রেডে শুরুর বেতন ২৪ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা।
সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাব আটকা :
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে আছেন। নতুন পে স্কেল অনুযায়ী- ১৩তম গ্রেডে তাদের মূল বেতন শুরু হয় ২৪ হাজার টাকা দিয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বেতন গ্রেড ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে বেতন কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যেও পড়ে না।
এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং অর্থ বিভাগেও প্রস্তাব পাঠিয়েছিল মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বর্ধিত গ্রেডে বেতন দিতে বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ তিন লাখ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি। বর্তমানে কর্মরত আছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ যোগদান করেছেন। তাদেরও ১১ অক্টোবর পদায়ন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক